[Close]

কষ্ট পাবেন না ‘গুরু’, আমরা তো আপনারই শিষ্য!


এ এক অবিশ্বাস্য গল্প। চরম নাটকীয়তা। হারের মুখে থেকে গতকাল শীলঙ্কার বিপক্ষে জয় তুলে নিল বাংলাদেশ। শেষ চার বলে দরকার ১২ রান। এটা কি সম্ভব? কিন্তু ক্রিকেটে যে অনেক কিছুই সম্ভব।

সেই অসম্ভবকে সম্ভব করে অবিশ্বাস্য এবং মনে রাখার মতো এক জয় ছিনিয়ে নিল টাইগাররা। এই জয়ে ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হবে টাইগাররা।

জয়ের আনন্দে ভাসছে সারা বাংলাদেশ। ক্রিকেট প্রেমিরা রাজধানীতে আনন্দের মিছিলও করেছে। স্যোশাল মিডিয়াও ছিল বাংলাদেশের জয়ের উল্লাস। তবে টাইগারদের এই জয়ে মেনে নিতে পারেনি শীলঙ্কান ক্রিকেট প্রেমি দর্শকরা। ৩০ হাজার শ্রীলঙ্কান মন খারাপ করে ঘরে ফিরেছেন।

নাটকীয়ভাবে বাংলাদেশের কাছে হেরে যাবার পর কেউ কেউ কেঁদেছেন। ঘরের মাঠের টুর্নামেন্ট, অথচ ফাইনালে তারা নেই, এটা মানতেই পারছেন না শ্রীলঙ্কান দর্শকরা।

আর তাতেই ক্ষুব্ধ হয়ে বাংলাদেশের ড্রেসিং রুমের দরজা ভাঙে পেলা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত যানা গেছে ভাঙচুর নয়, অসাবধানতাবশত ভেঙে গেছে। এ নিয়ে শ্রীলঙ্কান পত্র প্রত্রিকা ও ক্রিকনইফো রিপোর্ট করেছে।

ওই রিপোর্টে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের জয়সূচক ছ্ক্কা মারার পর ড্রেসিং রুমে বা ড্রেসিংরুমেরে সামনে উল্লাস করতে গিয়ে কাচের দরজা ভাঙার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

এই জয়ে শুধু শীলঙ্কান দর্শকদের মন খারাপ হয়নি। মন খারাপ হয়েছে বাংলাদেশের সাবেক কোচ ‘গুরু’ হাথুরু সিংহের। সেটা নিশ্চই বলার অপেক্ষা রাখেনা। নিজের দেশে এসে টাইগাররা যেভাবে পরাজিত করলো তার দল শীলঙ্কাকে সেই কষ্টটা হয়তো কাউকে দেখাতে পারবেন না হাথুরু।

সম্প্রতি বাংলাদেশের মাটিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল জিতে নিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। সেটা হয়তো ভুলে যাইনি টাইগাররা। আর এবার সেই জবাবটা সাবেক শিক্ষককের দলকেই দিলো টাইগাররা। তাও আবার শীলঙ্কার মাটিতে।

যতটা চাওয়া ছিল এ যেন তার চেয়েও বেশি। শীলঙ্কার মাটিতে দুটি ম্যাচে হারের স্বাদ নিতে হলো হাথুরুর দলকে। এতদিন বাঘের ডেরায় থেকে তাদের আঁচ টের পেয়েছিলেন হাথুরু, এবার আবারো টের পেলেন বাঘের আঘাতে ঘায়েল হওয়ার রক্তক্ষরণের ব্যথাও- আর তাইতো বলছি, কষ্ট পাবেন না ‘গুরু’ হাথুরে, আমারা তো আপনারই শিষ্য!

বাংলাদেশের এই জয়ের নায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচও উঠলো তার। এবার ফাইনালের অপেক্ষা করছেন ক্রিকেট প্রেমিরা।

প্রসঙ্গত, গত বছরের অক্টোবরে একটি মেইল পাঠিয়ে টাইগারদের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের সিদ্ধান্তটি জানিয়েছিলেন লংকান এই কোচ। তার হঠাৎ ওই সিদ্ধান্তে একটা ঝাটকা লেগেছিল বটে। বিসিবিপ্রধান নাজমুল হাসান পাপনের বাড়িতে বসেছিলেন দলের পাঁচ সিনিয়র- মাশরাফি, সাকিব, তামিম, মুশফিক আর মাহমুদুল্লাহ।

কেমন কোচ চাই তোমাদের? বিসিবিপ্রধানের জিজ্ঞাসায় পাঁচজনের প্রত্যেকেই জানিয়েছিলেন, তাড়াহুড়ার কিছু নেই। যতদিন যোগ্য কোচ খুঁজে পাওয়া না যায়, ততদিন আমরাই সামলাব। বাড়তি দায়িত্ব নিয়েছিলেন তাদের প্রত্যেকে। বিসিবিপ্রধান খুশি হয়ে ঘোষণাও দিয়েছিলেন- মাশরাফি-সাকিবই কোচের বাড়তি দায়িত্ব পালন করবে।

<>

Bangla24hour.com © 2017