[Close]

জহির খানকে ছক্কা হাঁকানো সেই ছেলেটিই আজকের তামিম


উপমহাদেশের ওপেনার মানেই ধ্বংসাত্মক ভাবে বোলারদের উপর রাজত্ব করা-যা ক্রিকেট বিশ্বে একটি জনপ্রিয় কথন। তাঁদের মধ্যেই একজন লংকান লিজেন্ড সনৎ জয়সুরিয়া। তবে আজকের লেখাটি কোনো লংকান লিজেন্ডকে নিয়ে নয়, তাঁকে আইডল মানা আরেক ওপেনার-কে নিয়ে। চট্টগ্রামের সম্ভ্রান্ত খাঁন বংশের ৩য় খাঁন হিসাবে ২০০৭ সালে মাত্র ১৮ বৎসর বয়সে আন্তর্জাতিক প্রাঙ্গণে টাইগার জার্সি গায়ে আবির্ভাব তাঁর। মাত্র ২ ম্যাচ খেলার পর স্বপ্নের বিশ্বকাপে সুযোগ আসে এই ওপেনারের এবং ২০০৭ বিশ্বকাপে ইন্ডিয়াকে ধরাশায়ী করার পিছনে তাঁর অবদান কখনোই হেলা করার মতো না।

অভিজ্ঞ জহির খাঁন-কে মাত্র ১৮ বৎসর বয়সে তাও বিশ্বকাপের মতো বিশ্বমঞ্চে এভাবে প্যাদানি দেয়া যা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। যতটুকু মনে পরে ম্যাচের পর যে কেউ একজন বলেছিল- “মাশরাফি যদি ইন্ডিয়ান ব্যাটিং লাইন আপের মেরুদন্ড ভেঙ্গে থাকে তবে সে ভেঙ্গেছে বোলিং লাইন আপের। “তারপর পাওয়া না পাওয়ার কিছু সময়ে নিজের ক্যারিয়ারের ওডিআই ও টেস্টের ১ম সেঞ্চুরি-গুলো পেয়ে যান। তারপর ২০১০ সাল যেন তাঁর আশীর্বাদের সাল ছিল। টাইগারদের মধ্যে দ্রুততম ১০০০ টেস্ট রান সংগ্রাহক এবং ৩য় সর্বকনিষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে হাজার রান করার কীর্তি গড়েন। টেস্টে ৩টি সেঞ্চুরি ও ৬টি ফিফটি হাকিয়েছিলেন মাত্র ১৪টি ইনিংসে এবং ৫৯.৭৮ গড়ে রান সংগ্রহ করেছিলেন। টেস্ট সেঞ্চুরি তিনটি এসেছিল ঢাকা, লর্ডস এবং ওল্ড ট্রাফোর্ডে।

বন্ধু সাকিবের পর ২য় বাংলাদেশী হিসেবে উইজডেন বর্ষসেরা ক্রিকেটারের খেতাব জিতেন। ২০১২ সালের এশিয়া কাপের প্রাক্কালে অসুস্থতা থেকে সেরে উঠার সময় তৎকালীন বিসিবি সভাপতি মোস্তফা কামালের পরামর্শে তাঁকে এশিয়া কাপের স্কোয়াডে না রাখায় টাইগার ভক্ত এবং বিসিবি নির্বাচকমন্ডলীরা প্রতিবাদী হয়ে উঠে যার ধারাবাহিকতায় তাঁর চাচা আকরাম খাঁন নিজের পদ থেকে ইস্তফা পর্যন্ত দেন, পরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে তিনি আবারও দলে সুযোগ পান এবং তাঁর চাচা নিজের পদে। তারপর এশিয়া কাপে টানা ৪টি ফিফটি হাকিয়ে দলকে নিয়ে যান ফাইনালে এবং বনে যান টাইগারদের মধ্যে একমাত্র ব্যাটসম্যান যে কিনা টানা চার চারটি ওডিআই ফিফটি হাকিয়েছেন। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের দেয়া তিন শতাধিক রানের টার্গেটে ৯৫ রানের ইনিংসটিই তাঁর অভিজ্ঞতার জানান দেয়। তারপর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পরপর দুটো ওডিআইতে সেঞ্চুরি, যাতে ভর করে প্রথম বারের মত পাকিস্তানকে বাংলাওয়াশ করা হয় এবং সিরিজ সেরার পুরষ্কার জিতেন তিনি। ২য় টাইগার ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি হাকানোর কীর্তি গড়েন তিনি। এই বছরেই প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে সিরিজ নির্ধারনী ম্যাচে অপরাজিত ৬১ রান করে দলকে ম্যাচ ও সিরিজ জয়ের স্বাদ দেন তিনি।

২০১৬ সালের টি২০ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ও সর্বোচ্চ ছয় হাকানো ব্যাটসম্যান তিনি। একমাত্র টাইগার ব্যাটসম্যান হিসেবে টি২০-তে এবং টি২০ বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি হাকিয়ে একমাত্র টাইগার ব্যাটসম্যান তিন ফরম্যাটে সেঞ্চুরি হাকানোর কীর্তি গড়েন। এই তিনিই বাংলাদেশের শততম টেস্টের জয়ের নায়ক এবং ম্যাচ সেরা। নিজের বর্তমান ওডিআই জার্সি নং এর সমান জন্মদিনের মাত্র একদিন পূর্বে নার্ভাস ৯৯৯৯ রানে আউট হলেও দলকে ঐতিহাসিক জয়ের সম্মুখে এনে দেন, এরপর দেশের মাটিতে ঐতিহাসিক অজি বধ এর ম্যাচে ৭০+ ইনিংসগুলো প্রধান ভূমিকা পালন করে। নিশ্চয়ই সবাই এতক্ষণে বুঝে নিয়েছে তাও বলি তিনি বাংলাদেশের সেরা ওপেনার তামিম ইকবাল খাঁন। আজ তামিমের ২৯ তম জন্মদিন। শেষে আরও একটা তথ্য দিয়ে যাই- তামিম ইকবালই এশিয়ান ক্রিকেটারদের মধ্যে প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র ব্যাটসম্যান, যার টেস্ট ফরম্যাটে ২০০ এর বেশি, ওডিআই ফরম্যাটে ১৫০ এর বেশি এবং আন্তর্জাতিক টি২০ ফরম্যাটে ১০০ এর বেশি রানের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংস রয়েছে। পরিশেষে, শুভ জন্মদিন তামিম ইকবাল। জহির খানকে ছক্কা হাঁকানো সেই ছেলেটিই আজকের তামিম।

The post জহির খানকে ছক্কা হাঁকানো সেই ছেলেটিই আজকের তামিম appeared first on Ekushey24.com.

Bangla24hour.com © 2017