[Close]

ধোনির কারণে এই পাঁচ ক্রিকেটাররা জাতীয় দলে বেশিদিন খেলতে পারেননি


কিছু ক্রিকেটার থাকেন, যাঁরা সৌভাগ্য় নিয়ে জন্মান। তাঁদের জন্মই যেন গ্রেটনেসের জন্য। আবার এমন অনেক ক্রিকেটার আছেন, যাঁরা প্রতিভার অধিকারী হয়েও, জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন সফল করতে পারেন না। অনেকে বলেন, ভুল সময়ে জন্মালে এমনই হয়।

মহেন্দ্র সিং ধোনি ভারতের সর্বকালের সেরা অধিনায়ক হলেও, ধোনিকে নিয়ে অনেকেই সমালোচনা করেন। কারণ, অধিনায়ক থাকাকালীন ভারতকে সফলতা এনে দিলেও, তাঁর আমলে বহু ক্রিকেটার সুযোগ পাননি জাতীয় দলে। অভিযোগ, ধোনি তাঁর অনেক পছন্দের ক্রিকেটারকে জাতীয় দলে দিনের পর দিন খেলিয়ে গিয়েছিলেন ফর্ম না থাকা সত্ত্বেও।

এই প্রতিবেদনে তেমনই কয়েকজন ক্রিকেটারের কথা বলা হলো, যাঁরা যোগ্য় হয়েই ভারতীয় দলে জাগয়া করতে পারেননি ধোনি জমানায়।

৬. রবিন উথাপ্পা

বিতর্কিত অস্ট্রেলীয় কোচ গ্রেগ চ্য়াপেল জমানায় রবিন ভারতীয় দলে আসেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফরম্য়ান্স তাঁকে ভারতীয় দলে জায়গা করে দিয়েছিল। অসম্ভব প্রতিভাবান ক্রিকেটার। চ্য়াপেল জমানায় টপ অর্ডারে উথাপ্পার বেশ কয়েকটি বিধ্বংসী ইনিংস নিয়ে এখনও লোকে কথা বলে। তবে অতিরিক্ত আগ্রাসী মনোভাবের জন্য় ঝুঁকিও নিতেন প্রচুর। আর তার ফল ভারতীয় দলকে ভুগতেও হয়েছে বেশ কয়েকবার।

তবে, এনিয়ে কোনও সন্দেহ নেই, রবিন উথাপ্পাকে আরও সুযোগ দেওয়া হলে বড় স্টার হয়ে উঠতে পারতেন। উইকেটকিপিং যেমন করতে পারেন, তেমনই লোয়ার অর্ডারে যে কোনও দলের সম্পদ উথাপ্পার মতো ব্য়াটসম্য়ান। কিন্তু, ধোনি ভারতীয় দলে থাকায় ৪৬টি ওয়ান-ডে এবং ১৩টি টি-২০ ম্য়াচের বেশি খেলার আর সুযোগ হয়নি তাঁর।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে উথাপ্পার রান ৪১.২৮ গড় সহ ৮৭৯৩। লিস্ট এ কেরিয়ারে তাঁর সংগ্রহ ৫৭৫৩ রান। ঘরোয়া ক্রিকেট এবং আইপিএলে রবিন একজন স্টার ক্রিকেটার। তবে, জাতীয় দলে তাঁকে ফের কোনওদিন খেলতে দেখা যাবে কি না, এই প্রশ্নের উত্তর কারও কাছে নেই!

৫. পারভেজ রসুল

একসময় ভারতীয় দলে ভালো অলরাউন্ডার পাওয়া নিয়ে বেশ হৈচৈ চলছিল। অথচ হাতে অপশন থাকা সত্ত্বেও জম্মু-কাশ্মীরের পেস বোলিং অলরাউন্ডার পারভেজ রসুলকে ক্রমাগত উপেক্ষা করে যাওয়া হয়। ২০১২-১৩ রঞ্জি মরশুমে ৫৯৪ রান করার পাশাপাশি ৩৩টি উইকেট নিয়ে জাতীয় দলে অভিষেকের সুযোগ জুটলেও, তাঁকে নিয়মিত সদস্য় হয়ে ওঠার অবসর দেওয়া হয়নি। ঝুলিতে সেই একটা ওয়ান-ডে ম্য়াচ এবং একটাই টি-২০ ম্য়াচ।

জাতীয় দলে বিবেচিত না হলেও, ঘরোয়া ক্রিকেটে জম্মু-কাশ্মীরের রসুল স্টার অলরাউন্ডার। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পারভেজ ৩৩৪৩ রান করার পাশাপাশি ১৫৬টি উইকেট তাঁর ঝুলিতে পুরেছেন। লিস্ট এ ক্রিকেটে সংগ্রহ ১৭৯৯ রান এবং ৮৩টি উইকেট।

বিষেণ সিং বেদীর মতো বড় মাপের প্রাক্তন ক্রিকেটার রসুলের বোলিংয়ে প্রভাবিত। তাঁর মতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সফলতা পাওয়ার মতো সব রসদই রসুলের মধ্য়ে রয়েছে। ধোনি জমানায় তাঁর শিকে ছেঁড়েনি, এখন বিরাট জমানায় ভারতীয় দলে ডাক পান কি না, সেটাই দেখার। কিন্তু, নির্বাচকদের ভাবনায় আপাতত তিনি নেই, এটা পরিষ্কার।

৪. ধবল কুলকার্নি

ঘরোয়া ক্রিকেট হোক কিংবা আইপিএল, মুম্বইয়ের ধবল কুলকার্নি ধারাবাহিকতার অপর নাম। তাঁর পরিসংখ্য়ানই তাঁর হয়ে কথা বলে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ২২৯টি উইকট এবং লিস্ট এ কেরিয়ারে ১৬০টি উইকেট রয়েছে, তাঁর নামের পাশে। ২০১৪ সালে বার্মিংহামে ইংল্য়ান্ডের বিরুদ্ধে অভিষেক ম্য়াচে কোনও উইকেট পাননি তিনি। তারপর থেকে ক্রমাগত লড়াই করে জাতীয় দলে ফের সুযোগ করে নেওয়া। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে হোম সিরিজে দলে ফেরেন।

কলকাতা ওয়ান-ডে‘তে কেরিয়ারের সেরা পারফরম্য়ান্স ৩৪ রান দিয়ে চার উইকেট। তার পরের ম্য়াচেই রাঁচিতে ৫৭ রান খরচ করে তিন উইকেট। কিন্তু, ওই সিরিজের পর আশ্চর্যজনকভাবে বাদ পড়েন দল থেকে। এরপর ২০১৫ সালে বাংলাদেশ সিরিজে ডাক পান। ধবল কুলকার্নি ভারতের হয়ে শেষবার আন্তর্জাতিক ম্য়াচ খেলেছেন ২০১৬ সালে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ওয়ান-ডে ম্য়াচে। ১২টি ম্য়াচে তাঁর সংগ্রহ ১৯টি উইকেট।

৩. কেদার যাদব

ছেচল্লিশের ওপর গড় নিয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রায় পাঁচহাজারের মতো রান করার পর ক্রিকেট বোদ্ধাদের ধারণা ছিল খুব সহজেই ভারতীয় দলে জায়গা করে নেবেন তিনি। তবে, জাতীয় দলে সুযোগ আসে ২০১৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে রাঁচিতে। অভিষেক ম্য়াচে ২০ রান করার পর বাদ পড়েন।

এরপর ২০১৫ সালে জিম্বাবোয়ে সফরে ফের ডাক আসে। প্রথম দু‘টি ওয়ান-ডে হতাশ করার পর তৃতীয় ম্য়াচে জ্বলে ওঠেন। বিস্ফোরক ক্রিকেট খেলেন। ব্য়াটহাতে ১০৫ রান করার পর বল হাতে ৪ উইকেট নেন ৮২ রান খরচ করে।

বড় কথা হলো, ব্য়াট-বলের পাশাপাশি কেদার উইকেটকিপিং‘ও করতে পারেন। ম্য়াচ ফিনিশার হিসেবে পরিচিতি গড়লেও যাদব যা সুযোগ পান, তাই কাজে লাগানোর চেষ্টা করেন। তাঁর ইচ্ছে বড় পারফরম্য়ান্স করা নয়, দলের জয়ে ভূমিকা নেওয়া।

বর্তমানে বিরাটের ভারতীয় দলে খেলার সুযোগ এলেও, ২০১৬ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে কেদারকে। এখন নিয়মিতভাবে সীমায়িত ওভারের ক্রিকেটে ভারতীয় দলের স্কোয়াডে নির্বাচিত হলেও ৩২ বছর হয়ে গিয়েছে তাঁর। এটাই চিন্তার বিষয়।

২. মনোজ তিওয়ারি

বাংলার ক্রিকেটার বহুদিন ধরে ঘরোয়া ক্রিকেটে পরিচিত নাম। অসম্ভব রকমের প্রতিভাবান আর সেই সঙ্গে ধারাবাহিক। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৭০২০ রান করেও, জাতীয় দলে নিজের জায়গা করে নিতে পারেননি। বলা ভালো তাঁকে নিজের জায়গা করে নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সুয়োগই দেওয়া হয়নি।

২০০৮ সালে ব্রিসবেনে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে অভিষেক হওয়ার পর তাঁকে আর জাতীয় দলে দেখা যায়নি। ২০১১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে আবার জায়গা পেলেও, সুযোগ পাননি সেভাবে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সিরিজের পঞ্চম ম্য়াচে তাঁকে খেলানো হয়। এক রানে দুই উইকেট হারানোর পর মনোজ মাঠে নেমে দুর্দান্ত শতরান করে ম্য়ান অফ দ্য় ম্য়াচের পুরস্কার জেতেন। কিন্তু, তা সত্ত্বেও তাঁকে বাদ দেওয়া হয় পরবর্তী সিরিজে। এরপর সুযোগের জন্য় আরও ১৪টি ওয়ান-ডে ম্য়াচ অপেক্ষা করতে হয়েছিল মনোজকে।

২০১২ সালে স্পিনার কলম্বো ওয়ান-ডে‘তে রাহুল শর্মার পরিবর্তে দলে জায়গা পেয়ে অলরাউন্ড পারফর্ম করেন। ২১ রানে ৪ উইকেট এবং ব্য়াটহাতে ৬৫ রান করেও। ২০১২ সালে এশিয়া কাপে স্কোয়াডে থাকলেও, খেলার সুযোগ পাননি।

২০১৪ সালে বাংলাদেশ ম্য়াচে সুযোগ আসে। শেষবার ২০১৫ সালে জিম্বাবোয়ে সফরে স্কোয়াডে পাঠানো হলেও, তারপর থেকে উপেক্ষিতই থেকে গিয়েছেন মনোজ।

১. নমন ওঝা

ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে অন্য়তম সেরা উইকেটকিপার-ব্য়াটসম্য়ান। তাঁর মতো এতোটা দুর্ভাগ্য়বান বোধ হয় আর কেউ নেই ঘরোয়া ক্রিকেটে। ধোনি জমানায় ক্রিকেট খেলার খেসারত রোজই দিতে হচ্ছে তাঁকে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নমনের রান ৮৮২৬। গড় ৪২.৬৩। উইকেটকিপার-ব্য়াটসম্য়ান হিসেবে জাতীয় দলে তাঁকে অনায়াসে খেলানো যায়। কিন্তু, মহেন্দ্র সিং ধোনির মতো একজন উইকেটকিপার-ব্য়াটসম্য়ান দলে থাকায়, জাতীয় দলে আর কাউকে নেওয়া যাচ্ছে না।

লিস্ট এ ক্রিকেটে নমন ওঝা ৩৬৬৭ রান করেছেন। ঘরোয়া টি-২০ প্রতিযোগিতায় সংগ্রহ ২৬০৬ রান। ইন্ডিয়া এ দলের হয়ে অস্ট্রেলিয়াতে ২০১৪ সালে একটি ডাবল সেঞ্চুরি ও দু‘টি সেঞ্চুরিও করছিলেন চার ম্য়াচে। কিন্তু, তা সত্ত্বেও ভারতীয় দলে জায়গা করে নিতে পারেননি, কারণ জায়গা ফাঁকা নেই বলে।

আইপিএল ক্রিকেটে রাজস্থান রয়্য়ালসের হয়ে বেশ কয়েকটি ভালো ইনিংস রয়েছে নমনের। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়েও নজর কাড়া কয়েকটি ইনিংস খেলেন। টেস্টের আসরে ধোনি অবসর নেওয়ার পর ভারতীয় দলে নমন ওঝার আসার সুযোগ তৈরি হলেও নির্বাচকরা বাংলার উইকেটকিপার-ব্য়াটসম্য়ান ঋদ্ধিমান সাহাকে বেছে নেন। এবারেও তাঁর ভাগ্য় মুখ ফিরিয়ে নেয়। এই প্রজন্মের সবচেয়ে দুর্ভাগ্য়বান প্রতিভাবান ক্রিকেটার নমন ওঝা।

<>

Bangla24hour.com © 2017