[Close]

আল্লাহপাকের সাথে অভিমান করে নামায না পড়া, যা বলছে ইসলাম !!


আল্লাহর সাথে অভিমান করে নামায না পড়া, এই ব্যাপারটা বহু মানুষের মাঝে দেখা যায়৷ “আমার জীবনে এমন কেন হলো” অথবা “আমার সাথেই কেন বারবার এমন হয়” এই বলে নামায ছেড়ে দেয়, রমযানের রোযাগুলো রাখে না, বিশেষ কিছু ইবাদাত করা হতো, সেগুলোও ছেড়ে দেয়ার মত কাজ অহরহ করে বসে মানুষ৷













অবশ্য, সবাই কমবেশি বুঝে যে এটা তার ঈমানের দুর্বলতার একটি প্রতিচ্ছবি৷ তারপরেও ভেতর থেকে আগ্রহ আসে না, চেয়ে থেকে সবাই শয়তানকে প্রশ্রয় দিতে থাকে৷

এমন পরিস্থিতিতে শয়তানের ওয়াসওয়াসাকে প্রতিরোধ করতে শুধু মনে করিয়ে দিতে হবে নিজেকে, আজকেই যদি আমার মৃত্যু চলে আসে, আমি কি প্রস্তুত? আমার জীবনে যেই শত-শত মূহুর্তে আল্লাহ আমাকে বেইজ্জতি থেকে, মৃত্যু থেকে, বিপদ থেকে, অভাব থেকে, অসুস্থতা থেকে রক্ষা করে অনুগ্রহ করলেন তার কৃতজ্ঞতা কি আমার এই আচরণ? আমি কি আমার সুস্থ হাত পাওয়ার, চোখ পাওয়ার কৃতজ্ঞতাস্বরূপ কিছু করার উত্তর দিতে পারব?













আমার কি চোখে পড়েনি রাস্তার পাশে পড়ে থাকা সেই মানুষগুলো যাদের হাত নেই, পা নেই, তবু তারা আল্লাহ আল্লাহ জপে জপে দয়াময় প্রতিপালকের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন?

আপনার, আমার যে দুর্দশাগ্রস্ত, বিপদগ্রস্ত সময় তার কারণ আসলে আমরা নিজেরাই। এবং এ সবই আমাদের কর্মের বিনিময়ে আল্লাহর নিখুঁত পরিকল্পনা।

আল্লাহ তা’আলা বলেন, “তোমাদের যেসব বিপদ-আপদ স্পর্শ করে, সেগুলি তোমাদের কৃতকর্মেরই ফল।” (সূরা শূরা-৩০)













তাই জেনে রাখুন, আপনার জীবনে কী ঘটছে তিনি খুব ভালো করে জানেন এবং তিনি নিজেই তা ঘটাচ্ছেন। সুতরাং, জীবনে আসা পরীক্ষার সময়ে আপনি কীভাবে তার ‘রিপ্লাই’ দিচ্ছেন সে ব্যাপারে খুব সচেতন হোন।

আল্লাহ তা’আলা বলছেন, “আমি অবশ্যই অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব যতক্ষণ না আমি জেনে নিই তোমাদের মধ্যে কারা ত্যাগ স্বীকারকারী আর কারা ধৈর্য্যশীল এবং জেনে নিই তোমাদের অবস্থান।” (সূরা মুহাম্মাদ-৩১)













আর এ পরীক্ষার সময়ে করণীয় ও উত্তীর্ণ হবার পথও দয়াময় আল্লাহ নিজেই বলে দিচ্ছেন- পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে, “তোমরা সবর ও নামাযের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্য্য ধারণকারীদের সাথে আছেন। (সূরা বাকারাহঃ ১৫৩)

আরও ইরশাদ হচ্ছে, “যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য পরিত্রানের পথ করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক দান করেন, যার কল্পনাও সে করেনি।” (সূরা তালাকঃ ২,৩)













কিন্তু আফসোস যে আমরা বরং উল্টোটাই করে বসছি। সবর, নামায ও তাকওয়া অর্জনের পরিবর্তে শিশু সুলভ অভিমান করে আল্লাহ প্রদর্শিত পরিত্রানের এই তিন পথকেই বরং পরিত্যাগ করছি!

মূলত জ্ঞানহীনতাই আমাদের এ অবস্থার কারণ৷ আমাদের উচিত হবে জ্ঞানার্জনের চেষ্টা করতে থাকা, সেটা যেই স্কেলেই হোক না কেন৷ কখনোই হাল ছেড়ে দেয়া উচিত না৷ যত ছোট কাজই হোক, একটা ভালো কাজকেও হেলাফেলা করা উচিত না৷ বলা যায় না, হয়ত এই ভালো কাজটা, অন্য মানুষের জন্য করা একটি দু’আ আমার জন্যেই পার্থক্য সৃষ্টি করে দিতে পারে৷













আর ঈমানের দুর্বলতার অনেকগুলো কারণ আছে, সেগুলোর সাথে যুদ্ধ করতে হবে৷ সেগুলোর একটা হলো জ্ঞান কম থাকা৷ আল্লাহর অনুপম সৃষ্টি এই পৃথিবীতে জ্ঞানার্জন করতে গেলে বোঝা যায়, বিশ্ব স্রষ্টা সর্বজ্ঞানী প্রজ্ঞাময় আল্লাহ কত মহান, কত বিশাল৷

দয়াময় আল্লাহ তাঁর অভিমানি সরলপ্রাণ বান্দাগুলোকে ক্ষমা করুন এবং পরীক্ষাগুলো বুঝে নিয়ে তাঁর প্রদর্শিত পথে চলে উত্তীর্ণ হবার তাওফিক দান করুন।


Post Views:
52

<>

Bangla24hour.com © 2017