[Close]

হুজুরের বয়ান ও কান্নাকাটিতে বন্ধ হয়ে গেল মেলা


আগে মেলা বন্ধ করতে হবে, তারপরে তিনি নামাজ পড়াবেন। নাহয় তিনি নামাজ পড়াবেন না। এরপরে দেখা হয় নতুন হুজুরের সন্ধান। কিন্তু সেই হুজুর শুরু করেন কান্নাকাটি। আর অপব্যাখা দেন মেলার। অতপর সেই হুজুরের কান্নাকাটিতেই মেলা বন্ধ করতে বাধ্য হোন গ্রামবাসী।

ঘটনাটি ঘটেছে লক্ষীপুরে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার ভাটরা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গত ২০-৩০ বছর ধরে বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়। আশপাশের গ্রামসহ দূর-দুরান্ত থেকে মৌসুমে ব্যবসায়ীরা এতে অংশ নেয়। গত বছর সাত দিনব্যাপী এই মেলা বসেছিল। এতে নানা বয়সি মানুষের বিপুল সমাগম হয়।

একাধিক মুসল্লি ও স্থানীয়রা জানায়, কয়েকদিন ধরে বর্ষবরণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল সবাই। শুক্রবার জুমার নামাজের আগে ভাটরা বাজার জামে মসজিদের ইমাম জয়নাল আবেদীন মসজিদে মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বয়ান দেন।

বয়ানে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় আইন শরিয়াহ বিরোধী হলে তা মানা হবে না। মেলা ও বৈশাখ পালন হিন্দু ধর্মের সংস্কৃতি বহন করে। মেলায় নারী-পুরুষ অবাধে চলাফেরা করে। এ জন্য বিদ্যালয় মাঠে মেলা হতে দেয়া যাবে না।

একপর্যায়ে তিনি কান্নাকাটি করে মুসল্লিদের বলেন, আপনারা যদি বিদ্যালয় মাঠে মেলা করেন তাহলে আমি আর নামাজ পড়াবো না। এ সময় তিনি কান্না করে মুসল্লিদের কাছ থেকে সমর্থন আদায় করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইমামের নামাজ না পড়ানোর হুমকিতে ওই মাঠে আয়োজকরা শনিবার মেলা করেনি। মেলা পরিচালনা কমিটির লোকজন ইমামের ধর্মীয় উসকানিতে আতঙ্কিত হয়ে মেলা বন্ধ করে দেয়।

বিগত বছরগুলোর অভিজ্ঞতায় শনিবার সকালে মাটির হাড়ি-পাতিল নিয়ে দূর-দুরান্ত থেকে কয়েকশ ব্যবসায়ী আসলেও দুপুর নাগাদ তারা ফিরে যায়।

<>

Bangla24hour.com © 2017