২০লাখ মানুষের স্বপ্নের সেতু খুলে দেওয়া হবে আজ

সব জল্পনা কল্পনার অবসন ঘটিয়ে অবশেষে আজ শনিবার কিকেল তিনটায় কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কুলাঘাটে ধরলা নদীর ওপর নির্মিত বহুল প্রতীক্ষিত দ্বিতীয় ধরলা সেতুটি জনসাধারনের যাতায়াতের সুবিধার্থে জন্য খুলে দিবেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক সাংসদ আলহাজ্ব মোঃ জাফর আলী। সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন ফুলবাড়ী উপজেলা এলজিইডি কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, বিকাল তিনটায় দ্বিতীয় ধরলা সেতুটির যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার সময় জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ জাফর আলী ও জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মেহেদুল করিমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগ নেতারাও উপস্থিত থাকবেন । উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ দিকে বহুল কাংক্ষিত দ্বিতীয় ধরলা সেতুটি খুলে দেওয়ার ঘোষনার পর থেকে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলার ২০ লাখ মানুষের মাঝে আনন্দের বন্যা বইছে। ২০ লাখ মানুষের স্বপ্ন যেন সত্যি হয়ে গেল। আর কোন দিন ঝুঁকিনিয়ে নৌকায় করে ধরলা নদী পাড়াপাড় হওয়া লাগবে না। এখন থেকে রাত দিন ২৪ ঘন্টা স্বাধীনভাবে দ্বিতীয় ধরলা সেতু দিয়ে চলাফেরা করতে পারবে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ওয়াহেদ আলী, ভানু চন্দ্র সরকার, কাশেম আলী, মদন পাল, সাত্তার মিয়া জানান, এখন থেকে আর কষ্ট করে দোকানের মালামাল আনতে হবে না । আজ থেকে আমাদের স্বপ্নের সেতুটি দিয়ে স্বাধীন ভাবে দোকানের মালামালসহ পাড়াপাড় করতে পারবো। তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান।

আজ শনিবার থেকে দ্বিতীয় ধরলা সেতুটি চালু হলে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী ও লালমনিরহাট জেলার ২০ লাখ মানুষ উপকৃত হবে। বিভাগীয় শহর রংপুরসহ দেশের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেকটা সহজ হবে। কমে যাবে ৩০ থেকে ৩৫ কিলোমিটার সড়ক পথ।

অন্যদিকে সেতুটি চালু হলে বঙ্গসোনাহাট স্থলবন্দর হয়ে ফুলবাড়ী দিয়ে ভারতের সেভেন সিস্টারস নামে খ্যাত উত্তর পূর্বাঞ্চলের ৭ টি রাজ্য আসাম, মেঘালয়, মিজোরাম, মনিপুর, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা ও অরুনাচলের সাথে বাংলাদেশ ও ভারতের পণ্য পরিবহন ব্যয় বহুলাংশে কমে আসবে। যুগান্তকারী অগ্রগতি ঘটবে বাংলাদেশ ও ভারতের এসব এলাকার। একই সাথে বাংলাদেশের লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের চ্যাংড়াবান্ধা হয়ে কলিকাতার যোগাযোগের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লালমনিরহাটের কুলাঘাট ও কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর মধ্যস্থিত ধরলা নদীর ওপর ৯৫০ মিটার পিসি গার্ডের ধরলা দ্বিতীয় সেতুর ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করেন। স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্ববধানে নির্মিত রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের দীর্ঘতম এই সেতুটি নির্মানের জন্য এলজিইডি সিমপ্লেক্স এবং নাভানা কনষ্ট্রাকশন গ্রুপের সাথে যৌথভাবে চুক্তি সম্পাদিত হয় ২০১৪ সালে। সেতুটির নদী শাসন, এ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণ ও মূল সেতুর জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ১৯১ কোটি ৬৩ লাখ ২২৩ টাকা ৫৮ পয়সা।

নাভানা কনষ্ট্রাকশন গ্রুপের পিএম সাধন কুমার পাল জানান,সেতুটি জুন ২০১৬ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের আবেদনের কারণে প্রথম দফায় ৩১ জুন ২০১৭ এবং দ্বিতীয় দফায ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। সবশেষ জানুয়ারি ২০১৮ সালে নাভানা কনষ্ট্রাকশন গ্রুপ নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। শনিবার সেতুটি জনসাধারনের জন্য ছেড়ে দেওয়া হবে।

কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ জাফর আলী জানিয়েছেন, আজ শনিবার বিকালে সেতুটি সাধারণ জনগনের জন্য খুলে দেওয়া হবে। সেতুটি প্রবেশ দ্বার খুলে দেওয়ার পরে পিছিয়ে পড়া ফুলবাড়ী-নাগেশ্বরী-ভুরুঙ্গামারী অঞ্চলের সাধারণ মানুষজন উন্নয়নের আরও একধাপ এগিয়ে যাবে।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী সরকার জানান, ছয় ইউনিয়নের নেতাকর্মী ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ জাফর আলী ও জেলা প্রশাসক মোছাঃ সুলতানা পারভীন ও নির্বাহী অফিসার দেবেন্দ্র নাথ উরাঁওয়ের উপস্থিতিতে জনসাধারনের স্বপ্নের ধরলা সেতুটি খুলে খুলে দেওয়া হবে।

ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী (এলজিইডি) রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অনেক আগেই সেতুটির কাজ শেষ হয়েছে। সরকারের মাননীয় মন্ত্রীসহ অনেকেই সেতুটি পরিদর্শন করেছেন। আজ শনিবার বিকালে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ জাফর আলী ও জেলা প্রশাসক মোছাঃ সুলতানা পারভীন সাধারণ মানুষের যানচলাচলের জন্য সেতুটির প্রবেশ দ্বার খুলে দিবেন।

Bangla24hour.com © 2017